বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) আওতাধীন সরকারি তেল বিপণন কোম্পানি পদ্মা অয়েল লিমিটেডের গোদনাইল ডিপোতে তেল চুরি ও বাণিজ্যের অভিযোগে বদলীকৃত কর্মচারীকে পুনরায় পদায়ন করা হয়েছে।

সূত্রমতে, দুই বছর আগে একটি বেসরকারি টিভিতে পদ্মা অয়েলের চেকার ফারুকুল ইসলামের বিরুদ্ধে তেল বাণিজ্য ও গড়ে তোলা সম্পদ নিয়ে বিস্তারিত সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনের পরে কর্তৃপক্ষ তাকে কারওয়ান বাজারের ঢাকা অফিসে বদলি করলেও তার তেল বাণিজ্য কখনোই বন্ধ হয়নি।
অভিযোগ আছে, বাইরে থেকেই তিনি ডিপোর সকল চোরাই তেলের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করে করতেন। তবে গত ২১ মে ২০২৬ তারিখে একযোগে পদ্মা অয়েলের ৪০ জন কর্মচারীর বদলি আদেশ হয় এবং এই আদেশে ফারুকুল ইসলামকেও পুনরায় গোদনাইল ডিপোতে পদায়ন করা হয়।
আরো অভিযোগ আছে, ফারুকুল ইসলামের নেতৃত্বে অবৈধ তেল বাণিজ্যের সিন্ডিকেট টিকিয়ে রাখতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা সরাসরি যুক্ত।
পদ্মা অয়েলের ডিপোগুলোর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইলে ডিপো দেশের অন্যতম বৃহত্তম তেলের ডিপো। যেখান থেকে বিমানের জ্বালানী জেট ফুয়েলসহ প্রতিদিন ৪০-৫০ লাখ লিটার জ্বালানী তেল সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ দিক থেকে পদ্মার গোদনাইল ডিপোর নিয়ন্ত্রণ নেন সিবিএ নেতা ফারুকুল ইসলাম। সরকার পতনের পরে পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ফারুকুল ইসলাম গা-ঢাকা দেন। কিন্তু তার সহযোগী ক্যাজুয়াল শ্রমিক আল-আমিন ওরফে রবি এবং ফারুকুলের আপন ভাই চেকার আনোয়ার হোসেনের মাধ্যমে ডিপোর তেল চুরি বাণিজ্যের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে রাখেন।
অভিযোগ, এই সিন্ডিকেট ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও জেট ফুয়েল বিতরণ পয়েন্টগুলো নিয়ন্ত্রণ করে। তেল বিতরণ স্থানে কে দায়িত্ব পালন করবে তা পুরোটাই ফারুকুল নির্ধারণ করেন এবং তার নির্দেশ মত সবাই কাজ করে থাকে। আওয়ামী লীগের সমর্থক হলেও বর্তমানে স্থানীয় বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে নিজের পক্ষে নিয়েছেন তিনি।
সূত্রমতে, প্রতিদিন ৫-৬ হাজার লিটার পরিমাণ ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও জেট ফুয়েল অবৈধভাবে চুরি ও বিক্রি করে এই সিন্ডিকেট। এছাড়া অসাধু লরি চালকরাও কম টাকায় তাদের কাছে তেল বিক্রি করেন। এমনকি পদ্মার ডিপো থেকে তেল চুরি হলেও কর্মকর্তাদের হাত করে পুরোটাই ঘাটতি হিসাবে দেখানো হয়। অভিযোগ আছে, কোম্পানির কিছু সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে এই সিন্ডিকেটের সাথে। যারা সিন্ডিকেট ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কর্মকর্তাদের ডিপোতে পদায়নে ভূমিকা রাখেন।
গোদনাইল ডিপোর বর্তমান ইনচার্জ সহকারী ব্যবস্থাপক জনাব আমিনুল হক মূলত চট্টগ্রামের পদ্মা অয়েলের প্রধান স্থাপনায় কর্মচারী সম্পর্ক কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। যার পেট্রোলিয়াম অপারেশন্স কার্যক্রম সম্পর্কে কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই।তাকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ ডিপোর প্রধান পদে পদায়ন করা হয়। অভিযোগ এ ঘটনার পিছনে ফারুকুল সিন্ডিকেট এবং কোম্পানির কয়েকজন সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা জড়িত আছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
গত ১৬ জুন ২০২৫ ইং তারিখে বিপিসির জারিকৃত এক পত্রে ডিপো ইনচার্জ পদায়নের ক্ষেত্রে কর্মকর্তার চাকুরীকালীন পেশাগত জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে আমলে নিয়ে পদস্থ করার জন্য কোম্পানীগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু তার কোন তোয়াক্কা না করেই একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে ইনচার্জ হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।