ঢাকা, ||

স্ট্যাটাস আপডেট


ফেসবুক

প্রকাশিত: ৯:০৩ পূর্বাহ্ন, জানুয়ারী ১৩, ২০১৫

সিডাটিভ হিপনোটিক্স

তো পুরো দমে বাস ভাঙা হলো। সামনের গ্লাস ভাঙা শেষ। এখন সিটের সাইডের গ্লাস ভাঙা হচ্ছে। বাস থেকে নেমে যাত্রীরা সবাই ছবি তুলছেন। সাহসের অভাবে কেউ সেলফি তুলতে পারছেন না। উৎসবমুখর পরিবেশ।

বাস ভাঙা শেষ করে ছেলে গুলো চলে যাচ্ছিলো, জমায়েত সবাই তখন হতাশ। সবাই উৎসুক ছিলো সেই বিশেষ ক্ষনের। সাহসী একজন বিরক্ত হয়ে একটু জোরেই বলে উঠলো, ‘ধুর, শুধু গ্লাস ভাঙছে, আগুন দেয় নাই।’

মনে হচ্ছিল এইটা অবিচার, জুলুম। ভবিষ্যতে যা হতে পারে-

– বস, আগুন দিবেন না?
– লাইটার লাগবে? জিপো?
– পেট্রোল লাগবে? বোমা বানায় দিবো ?
– ভাই, আগুন দেয়ার পর পান খাবেন? জর্দা দিয়া না ছাড়া ?
– বস একটু তাড়াতাড়ি ধরান, শীতে কাঁপতেছি।
– আমি ফ্রিজ থেকে মুরগির মাংস বাইর করি, গ্রিল করা যাবে।
– বাসের পিছের দামি গাড়িটাও পুড়ান, বড়লোকি ছুটায় দেন।
– মাইকেল বে’র মুভির মত বিস্ফোরন হবে না? বুমমমম!!

মানুষ ভায়োলেন্স পছন্দ করে, খুব করেই পছন্দ করে। কোথাও আগুন লাগলে মানুষের ভিড়ের জন্য দমকল যেতে পারে না।

একান্নবর্তী পরিবারের এক সদস্য বিদেশ যাবে, তাকে বিদায় দিতে মোটামুটি ২০-৩০ জন রাস্তায়। মিনিট পাচেক পর এক-দেড়শো মানুষ সেখানে। মানুষের ভীড় দেখে সবাই দাড়িয়েছে, নিশ্চয়ই কোন ভাঙচুর হবে।

বিল্ডিং ভাঙা হচ্ছে। সেটা দেখতে জনা পঞ্চাশেক মানুষের ভীড়। ভাঙচুর হচ্ছে, দেখতে ভালো লাগে। শোনা যায় বিল্ডিং ভাঙতে গিয়ে অনেকে চাপা পড়ে, নীচে পড়ে। উৎসাহ নিয়ে দাঁড়ানো যাক।

ট্রান্সফর্মার ব্লাস্ট হয়েছে। ফিউজ পাল্টাতে মই দিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের লোক উপরে উঠেছে। নীচে অনেক মানুষ। হাজার হাজার ভোল্ট কারেন্টের ব্যাপার স্যাপার, দেখতে মজা লাগে। যদি কোন বিশেষ ক্ষনের উপলক্ষ্য পাওয়া যায়।

ডাকাত ধরা পড়েছে, পেটানো হতে পারে, এমনকি চোখ উপড়ে ফেলা হতে পারে। পুরো গ্রাম ভেঙে পড়তো। কাজকর্ম ফেলে বাজারে সবাই, ছেলে মেয়ে বউ বাচ্চা নিয়ে। মানুষ ভায়োলেন্স পছন্দ করে, খুব পছন্দ করে। থামাতে কেউ চায় না।

তৌহিদুর রহমান হিমেল

দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো লাইভ অনুষ্ঠানে ফোন করে প্রিয় তারকাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা। জন্মদিন উপলক্ষে মঙ্গলবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের(চ্যানেল আই) আমন্ত্রণে লাইভ অনুষ্ঠানে অংশ নেন সংগীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা।

প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার ফোন পাওয়ার পর বন্যা জানান, খুবই ভালো লাগছে এই ভেবে যে, প্রধানমন্ত্রীর মতো একজন রুচিশীল ও সংগীতপ্রিয় মানুষ এতো সকাল বেলা এ ধরনের অনুষ্ঠান দেখেন।
শেখ হাসিনার পাশাপাশি তার ছোট বোন শেখ রেহানাও শিল্পী বন্যাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান। এ সময় তিনি শিল্পীর কাছে ‘ভরা থাক স্মৃতি সুধায়’ শিরোনামে একটি গানের অনুরোধ জানালে তা অনুষ্ঠানে পরিবেশন করা হয়।
দেশরত্ন শেখ হাসিনার মতো একজন রুচিশীল মানুষকে আমরা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পেয়েছি এটা আমাদের জন্য গৌরবের। দেশের কৃতি সন্তানদের প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যে সম্মান ও পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে তা এই ফোনালাপের মধ্য দিয়ে আরেকবার প্রমানিত হলো। এত সকালে একজন সাধারণ টেলিভিশন দর্শকের মতো যেভাবে রবীন্দ্র সংগীতের কিংবদন্তী রেজোয়ানা চৌধুরী বন্যা’কে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালেন তা আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে সাধারন জনগনের আরো কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।

Pinaki Bhattacharya

সোমরস ঋগ্বেদে এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। দেবতাদের পুজায় সোমরস তাঁদের উদ্দেশ্যে আগুনে আহুতি দেয়া হতো। এটিকে ইন্দ্রের প্রিয় পানীয় ছিল। এতদিন জানতাম সোমরস মানে সেই সময়ের পাগলা পানি বা অগ্নিজল বা মদ্য। এমনটাই বলেছেন আমাদের পূর্বপুরুষরা যা কোনদিন যাচাই করে দেখা হয়নি। ভাবতাম আহা, এমন স্বর্গীয় পানীয় কোথায় গেল? এবার আসুন দেখি এটা আসলে কী ছিল?

সোমরস আসতো সোমলতা থেকে। সোমরস সুমিষ্ট, এই রস যেমন পানীয় হিসেবে ব্যবহৃত হতো, তেমন দুধ, দধি ও ক্ষীরে দেয়া হতো মিষ্টতার জন্য। দুধে নিশ্চয় মদ মেশানো হবেনা। এই সোমলতা কোথায় গেল? একটা সেলিব্রেটেড উদ্ভিজ প্রজাতি নিশ্চয় হারিয়ে যায়নি? হতে পারে, শুধু আমরা প্রাচীন নামটা ভুলে বসে আছি। এবার আসুন দেখি সোমলতার কী কী বর্ণনা দেয়া আছে ঋগ্বেদে আর প্রাচীন ধর্মগ্রন্থগুলোতে।

ঋগ্বেদের ৯ মণ্ডলের ৬৬ সুক্তে সোমরস সংগ্রহ ও শোধন সম্পর্কে বলা আছে। “এর ধারা হরিৎ বর্ণ, কখনো শুভ্র বর্ণ বা কখনো ঈষৎ লোহিত বর্ণ। একে পীড়ন বা প্রস্তর খণ্ডের মাঝে রেখে পেষণ করে উৎপন্ন করতে হয়। সোমলতা বিচিত্র কুশ যুক্ত। দুটি কুশ বক্রভাবে শোভিত হয়। এই সোমলতা বর্ষজীবী। কুশের অগ্র তীক্ষ্ণ ও বৃষভের শৃঙ্গের মতো। সোমলতা সোনালি হরিৎ বর্ণের নিটোল, গোলাকার, লম্বা, সরল। সোমলতার দেহকাণ্ড থেকে আরেক সোমলতা জন্মায়।”

এবার বুঝতে পারছেন? এটা আমাদের আখ??!!

যুদ্ধে জাবার আগে সোমরস পান করত যোদ্ধারা। এ থেকে ইনস্ট্যান্ট গ্লুকোজ পেয়ে যোদ্ধারা যুদ্ধের শক্তি পেত। ঈষৎ মজে যাওয়া সোমরস মত্ততাও দিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলার জর্মন সেনাদের শুগার কিউব দিত যুদ্ধে যাবার আগে।

তবে আখের রস রেখে দিয়ে মজিয়ে যে মদ্য জাতীয় পানীয় তৈরি করা হতো সেটাও সত্য। কারণ সোমরস পানে মত্ততার উল্লেখ আছে ঋগ্বেদেও।

বৈদিক আন্দোলনে বাঁধ ভেঙ্গে ফেলার যত যুদ্ধ হয়েছে সেখানে সোমরসের দরকার ছিল, যুদ্ধ উন্মাদনা তৈরির জন্য। কিন্তু পরবর্তীকালে বৈদিক সমাজ মদ্যপানকে নিন্দনীয় কিংবা অবাঞ্ছিত ঘোষণা করলো। তাই সোমরসের প্রচলিত অর্থ রক্ষা করা বৈদিক ঋষিদের জন্য এবং ধর্মের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দেখা দিল। তাই এটাকে দেবতাদের অতীতের ব্যবহৃত পানীয় হিসেবে দেখাতে গিয়ে এর অর্থ বিলুপ্ত করে দিতে হয়েছে। বিশেষত বৈদিক অপৌত্তলিক বা নিরাকার দেবতাদের পুজা পদ্ধতির অবসানের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের উদ্দেশ্যে অগ্নিতে সোমরস আহুতি দেয়ার প্রয়োজন ফুরালে সোমের অর্থ ভুলিয়ে দেয়া সহজ হয়েছে। এভাবেই আমাদের চির পরিচিত আখ যে সোমরস সেটা আমরা ভুলে গেছি। চমস্কির নেসেসারি ইলিউশন যারা পড়েছেন, এই পদ্ধতি কতখানি কার্যকর সেটা নিশ্চয় বুঝতে পারছেন।

এবার হয়ে যাবে নাকি এক গ্লাস চনমনে সোমরস?

Top