ঢাকা, ||

সা কা চৌধুরী এবং আলী আহসান মুজাহিদের আপীল শুনানী আজ


সংবাদ

প্রকাশিত: ৬:০৩ অপরাহ্ন, এপ্রিল ৭, ২০১৫

Supreme Courtএবার জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল নিষ্পত্তির অপেক্ষায়। আপিল বিভাগে ৮টি মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। মঙ্গলবার মুজাহিদ ও সাকা চৌধুরীর  মামলা কার্যতালিকায় থাকলেও শুনানি হয়নি। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (এসকে সিনহা)র নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে এ দুইটি মামলা আজ বুধবার কার্যতালিকায় রয়েছে । এই বেঞ্চে আরো আছেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াত নেতা মোহাম্মদ কামারুজ্জামানকে ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদন্ড বহাল রেখে সুপ্রীমকোর্টের দেয়া রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন সুপ্রীমকোর্ট।  মৃত্যুদন্ড কার্যকরের প্রতীক্ষায় সারা দেশ।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা ও নায়েবে আমির দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার নিষ্পত্তি হয়ে গেছে।।
 জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুজাহিদ এর বিরুদ্ধে  অভিযোগ এবং রায়

হত্যা, গণহত্যা, লুণ্ঠন, অপহরণ, দেশত্যাগে বাধ্য করা ও অগ্নিসংযোগের দায়ে সাতটি অভিযোগের মধ্যে ৫টি প্রমাণিত হওয়ায়  ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড প্রদান করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।  তার বিরুদ্ধে সাতটি অভিযোগের পাঁচটি ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে । তার মধ্যে সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেনসহ বুদ্ধিজীবী হত্যা এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর বর্বর হত্যা-নির্যাতনের দায়ে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মুজাহিদের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার আদেশ প্রদান করেন  আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। সাতটি অভিযোগের মধ্যে ২টি অভিযোগ (২ ও ৪) প্রমাণিত না হওয়ায় অভিযোগের দায় থেকে মুজাহিদকে খালাস দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে ৫টি অভিযোগ (১, ৩, ৫, ৬ ও ৭) সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল তাকে ৩নং অভিযোগের অপরাধের দায়ে ৫ বছর ও ৫নং অভিযোগের অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করেছে। ৬ ও ৭নং অভিযোগে উল্লেখিত অপরাধে মুজাহিদকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করা হয়েছে। ১নং অভিযোগটি ৬নং অভিযোগের সঙ্গে একীভূত করায় ১নং অভিযোগে পৃথক কোন দন্ড দেয়া হয়নি। আসামি পক্ষ এ রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ১১ আগস্ট আপিল করেন।
বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের দায়ে আনা ২৩ অভিযোগের মধ্যে ৯টি অভিযোগ প্রমাণিত হয়। সা কা চৌধুরীকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ মৃত্যুদন্ড প্রদান করেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, নির্যাতন জোর করে ধর্মান্তরিত করাসহ ২৩ অভিযোগের মধ্যে ৯টি অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এর মধ্যে চারটি চার্জ ৩, ৫, ৬ ও ৮ নম্বর অভিযোগে হত্যা ও গণহত্যার দায়ে সাকা চৌধুরীকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়। ১৭ ও ১৮ নম্বর অভিযোগে অপহরণ ও নির্যাতনের দায়ে ৫ বছর করে ১০ বছর কারাদন্ড।২, ৪ ও ৭ নম্বর অভিযোগে হত্যা, গণহত্যা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও দেশান্তরে বাধ্য করার মতো অপরাধে জড়িত থাকা এবং এর পরিকল্পনা করার দায়ে ২০ বছর করে ৬০ বছর কারাদন্ড দেয়া হয়েছে।
সা কা চৌধুরীর বিরুদ্ধে অপহরণ ও নির্যাতন সংক্রান্ত ১৭ এবং ১৮ এই ২টি অভিযোগ  আদালতে প্রমাণ হয়েছে । ১৭ নম্বর অভিযোগে নিজাম উদ্দিন আহম্মেদকে অপহরণ ও নির্যাতন, ১৮ নম্বর অভিযোগে সালেহ উদ্দিন আহমেদকে অপহরণ ও নির্যাতনের অপরাধ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে । এ দুই অভিযোগে সাকাকে  ৫ বছরের সশ্রম কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। ২, ৪ ও ৭ নম্বর অভিযোগে তাঁকে  ২০ বছরের কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। ৮টি অভিযোগ থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে ।  সেগুলো হলো ১, ১০, ১১, ১২, ১৪, ১৯, ২০ ও ২৩ নম্বর অভিযোগ । মৃত্যুদন্ডের বিরুদ্ধে সাকাচৌ ২০১৩ সালের ২৯ অক্টোবর সুপ্রীমকোর্টে আপীল করেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের ১৭টি মামলার ১৮ জনের বিরুদ্ধে দন্ড প্রদান করেছেন। এর মধ্যে ১৪ জনকে মৃত্যুদন্ড, একজনকে যাবজ্জীবন, একজনকে ৯০ বছরের কারাদন্ড এবং দুই জনকে আমৃত্যু করাদন্ড প্রদান করেছেন। পরবর্তীতে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করলেও পরে সুপ্রীমকোর্টের আপিল বিভাগ তাকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করেন। তার দন্ড কার্যকর করা হয়েছে। জামায়াতের নায়েবে আমির দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীকে ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদন্ড প্রদান করলেও পরবর্তীতে আপিল নিষ্পত্তিতে তাকে মৃত্যুদন্ড কমিয়ে আমৃত্যু করাদন্ড প্রদান করা হয়।
মুজাহিদ-সাকা ছাড়াও বর্তমানে আরও ৬ জন ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদন্ডের বিরুদ্ধে আপীল করেছেন। যারা আপীল করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী, জামায়াতের নির্বাহী কমিটির সদস্য মীর কাশেম আলী, আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত মোঃ মোবারক হোসেন, জাতীয় পার্টির সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ মোঃ কায়সার, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজাহারুল ইসলাম, জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুস সুবহান।
অন্যদিকে আমৃত্যু কারাদন্ডের বিরুদ্ধে সাজা বাড়ানোর জন্য রাষ্ট্রপক্ষ পলাতক আব্দুল জব্বারের বিরুদ্ধে আপীল করেছেন ।

জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সদস্য পলাতক আবুল কালাম আজাদ, আল-বদর সদস্য চৌধুরী মাঈনুদ্দীন, আশরাফুজ্জামান খান, বিএনপি নেতা নগরকান্দা পৌর মেয়র জাহিদ হোসেন খোকন ওরফে খোকন রাজাকার ও জাতীয় পার্টির সাবেক সাংসদ পলাতক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল জব্বার পলাতক থাকায় চারজন আপিল করেননি। তাদের মৃত্যুদন্ড সাজা বহালই রয়ে গেছে। তবে রাষ্ট্র পক্ষ আপিল করেছে।
ট্রাইব্যুনালে আমৃত্যু কারাদন্ডপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা আব্দুল আলিম ও যুদ্ধাপরাধীদের নেতা গোলাম আযমকে ট্রাইব্যুনাল  ৯০ বছর কারাদন্ড দিয়েছে। তারা সর্বোচ্চ শাস্তিযোগ্য অপরাধ করলে ও বয়স বিবেচনায় এ রায় দেন ট্রাইব্যুনাল। এই দু’জনই আপীল বিভাগে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করেছিলেন। তাদের মৃত্যুর কারণে আপিল বিভাগ তাদের আপিল অকার্যকর করেছে। অন্যদিকে রাজাকার বাহিনী প্রতিষ্ঠাতা একেএম ইউসুফ ট্রাইব্যুনালে বিচার চলাকালীন সময়ে অসুস্থ অবস্থায় মারা যায়। ফলে ট্রাইব্যুনাল আর মামলাটি না চালানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

Top