ঢাকা, ||

চলমান সহিংসতা প্রতিরোধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আহবান


সংবাদ

প্রকাশিত: ৫:৪৪ অপরাহ্ন, ফেব্রুয়ারী ৪, ২০১৫

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,

বর্তমানে দেশে যে অরাজক পরিস্থিতি চলছে, যেভাবে আন্দোলনের নামে মানুষ পুড়িয়ে মারা হচ্ছে এবং দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে তার মোকাবেলায় কিছু পরিকল্পনা ও প্রস্তাবনা পেশ করছি।

১. বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর প্রতিটি জেলা ইউনিট ও উপজেলা ইউনিট কে নির্দেশনা প্রদান করুন রাজপথে যেন সন্ত্রাস বিরোধী সক্রিয় প্রতিবাদী আন্দোলন শুরু করার জন্য।
২. বর্তমান সংসদের নির্বাচিত সাংসদ ও নেতৃবৃন্দকে নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ কে সাথে নিয়ে নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও প্রতিহত করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করুন। গণসচেতনতা তুলতে ক্ষেত্রে যিনি ব্যর্থ হবেন তার ব্যাপারে শৈথিল্য প্রদর্শন করা হবে না এই মর্মে নির্দেশ দিন।

৩. বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর প্রতিটি জেলা ইউনিট ও উপজেলা ইউনিটকে নির্দেশনা প্রদান করুন যেন জামাত-বিএনপি জোট ও তাদের সহযোগী সংগঠন ছাড়া নিজ নিজ ইউনিটে মহাজোটের শরিক দলসমূহসহ রাজনৈতিক, সামাজিক, শ্রমিক, পরিবহন মালিক ও পেশাজীবী সংগঠন এর সাথে মতবিনিময় করেন ও তাদেরকে কর্মসূচিতে একাত্মতা জানানোর আহ্বান জানান।

৪. বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর প্রতিটি জেলা ইউনিট ও উপজেলা ইউনিট কে নির্দেশনা প্রদান করুন যেন মতবিনিময় সাপেক্ষে নিজ নিজ ইউনিটে একদিন অন্তর অন্তর বিভিন্ন পয়েন্টে মানব-বন্ধন এর মাধ্যমে জনগণের সচেতনতা সৃষ্টি করে সাহসী হতে উদ্বুদ্ধ করেন। এ সকল কর্মসূচিতে স্থানীয় কৃষক লীগ, পেশাজীবী লীগ, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডসহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠনকে অংশগ্রহণ করার নির্দেশ জারি করুন।

৫. প্রতিটি ইউনিটের প্রতি নির্দেশ দান করুন যেন নেতাকর্মীরা জনসচেতনতা তৈরির লক্ষে নিজ নিজ এলাকায় সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য বিরোধী জনসচেতনতা মূলক পোস্টার ও লিফলেট বিতরণে সক্রিয়ভাবে কাজ করে।

৬. প্রতিটি মহানগর, জেলা ও উপজেলা যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ এর প্রতি নির্দেশনা জারি করুন যেন নিজ নিজ ওয়ার্ড পর্যায়ে গণসমাবেশের মাধ্যমে সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতিকারী প্রতিহত করতে নিজ নিজ এলাকায় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং পার্শ্ববর্তী ওয়ার্ড সমূহের সাথে সার্বক্ষণিক সমন্বয় সাধন করে কাজ করবেন। এছাড়া যেকোনো মুহূর্তে এক ওয়ার্ড যদি পার্শ্ববর্তী অনন্য ওয়ার্ডের সহযোগিতা কামনা করে তবে অবশ্যই সহযোগিতা করিবে।

৭. ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি, প্রত্যেক জেলা ও উপজেলা কমিটি ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কমিটি ও কলেজ কমিটির নেতৃবৃন্দকেকে নির্দেশনা প্রদান করুন যেন নিজ নিজ এলাকায়, ক্যাম্পাস ও ক্যাম্পাস পার্শ্ববর্তী এলাকায় সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য বিরোধী মিছিল ও প্রতিবাদী স্লোগানে মুখরিত করে রাখে এবং নিজ নিজ ক্যাম্পাসে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করার।

৮. এসএসসি পরীক্ষাকালীন সময়ে প্রত্যেক জেলা ও থানা যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগকে প্রতি পরীক্ষা কেন্দ্রে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে নিজ নিজ ইউনিট এ অবস্থিত কেন্দ্রে নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলার নির্দেশ প্রদান করুন। প্রতি কেন্দ্রে প্রত্যেক সংগঠনের পক্ষ থেকে অবশ্যই প্রতি পরীক্ষার দিন নূন্যতম ৩০ জন করে কর্মী দায়িত্ব পালন করবে। প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ছাত্রলীগে নিজ নিজ জেলা উপজেলা ছাত্রলীগকে সহযোগিতা করবে।
এলাকার নির্বাচিত সংসদ সদস্যগণ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ এই সকল কর্মকাণ্ড তদারকি করবেন এবং যোগ্য অভিবাবকের ভূমিকা পালন করবেন।

৯. এই কর্মসূচি নূন্যতম এক মাস বহাল রাখার নির্দেশনা প্রদান করুন এবং আন্দোলনের নামে যেন সাধারণ জনগণ কোনো প্রকার হয়রানি ও লাঞ্ছনার শিকার না হয় সেদিকে সবাইকে লক্ষ রাখার ব্যাপারে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিন।

১০. যদি আন্দোলনে সম্পৃক্ত কোনো কর্মী আহত হন তাহার চিকিৎসা খরচ দল বহন করিবেন। যদি কোনো কর্মীর মৃত্যু হয় তাহলে অবশ্যই তার উপযুক্ত সম্মানপূর্বক তার পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা দিবেন।

১১. কেন্দ্র থেকে সরাসরি এই আন্দোলন মনিটরের ব্যবস্থা গ্রহণ করুন এবং সকল নির্দেশনা।

কর্মসূচিতে লোক সমাগমের সম্ভাবনা হবে নিম্নরূপ :
ক . প্রত্যেক সংসদ সদস্য যদি ১০,০০০(দশ হাজার) জন লোক সম্পৃক্ত করেন তাহলে ৩০০ জন সংসদ সদস্যের সম্মিলিত লোক হবে ৩০,০০,০০০(ত্রিশ লক্ষ) জন।

খ. প্রতি মহানগর এর সকল অঙ্গসংগঠনসহ সকল ইউনিট যদি কাজ করে তাহলে ৭টি মহানগরে লোক সমাগম করা সম্ভব কমপক্ষে ৭,০০,০০০(সাত লক্ষ)।

গ. ৬৪ টি জেলায় যদি সকল ইউনিট যুগপৎভাবে কাজ করে তাহলে প্রতিটা জেলায় লোক সমাগম সম্ভব হবে নূন্যতম ১০,০০০(দশ হাজার )জন।
মোট লোক সংখ্যা দাঁড়াবে ৬,৪০,০০০ (ছয় লক্ষ চল্লিশ হাজার) জন।

ঘ. প্রতিটি উপজেলায় বা থানায় যদি সকল ইউনিট যুগপৎ কাজ করে তাহলে লোক সমাগম প্রতিটা সম্ভব নূন্যতম ৫০০০(পাঁচ হাজার )জন তাহলে ৪৬৪ টা থানায় কর্মী সমাগম হবে ২৩,২০,০০০(তেইশ লক্ষ বিশ হাজার) জন। সারা দেশে সর্বমোট নূন্যতম কর্মী সংখ্যা দাঁড়াবে = ৬৬,৬০,০০০(ছেষট্টি লক্ষ ষাট হাজার ) জন।
এ হিসাব মূল সংগঠনের। ৫ থেকে ৬ হাজার নাশকতাকারীকে প্রতিহত করতে আর কত লোক প্রয়োজন! তদুপরি রিজার্ভ থাকবে ছাত্রলীগ এর ১৫,০০,০০০(পনের লক্ষ) নেতাকর্মী যারা শুধু আপনার আহ্বানের অপেক্ষায়।

পরিশেষে বলতে চাই, আপনি দুষ্কৃতিকারীদের মোকাবেলার সিদ্ধান্ত নিন। আপনার বিশাল কর্মীবাহিনী জাতির এ ক্রান্তিলগ্নে আগুনে পোড়া বিভৎস লাশের স্তৃপ দেখে চুপ থাকতে পারে না অন্যথায় বিবেকের কাছে ঋণী থাকতে হবে।
বিনীত,
এম কবিরুল ইসলাম আকাশ
সহ-সভাপতি
প্রাণের৭১
কেন্দ্রীয় কমিটি

[প্রেসবিজ্ঞপ্তি]

Top