ঢাকা, ||

বিচারপতিদের স্বাক্ষর সম্পন্ন, কারাগারে যাচ্ছে কামারুজ্জামানের রায়


সংবাদ

প্রকাশিত: ১০:২৭ পূর্বাহ্ন, এপ্রিল ৮, ২০১৫

▣ অনলাইন ডেস্ক » : যুদ্ধাপরাধী কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় বহাল রেখে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের দেওয়া চূড়ান্ত রায়ের অনুলিপি সব বিচারপতির স্বাক্ষর করা সম্পন্ন হয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই রায় পৌঁছে যাবে কারা কর্তৃপক্ষের হাতে।

বিচারপতিদের স্বাক্ষরিত রায়ের কপি পাঠনো হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্টারের কার্যালয়ে। এরপরেই এটি পাঠানো হবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়, ট্রাইব্যুনাল, কারা কর্তৃপক্ষ, এটর্নি জেনারেল, জেলা প্রশাসক ও আসামী পক্ষের কাছে।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সূত্র জানিয়েছে, ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত, জল্লাদ ঠিক করাসহ যাবতীয় প্রস্তুতি শেষ। রায়ের অনুলিপি হাতে পাওয়ার পরই ফাঁসির রায় কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু হবে। ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে কামারুজ্জামানের করা আবেদন গত সোমবার আপিল বিভাগ খারিজ করে দেন। আপিল বিভাগের এ রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা বিচারের সর্বশেষ ধাপ শেষ হয়ে যায়। এখন শুধু তার রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার সুযোগ আছে।
কারা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, সাজাপ্রাপ্ত কামারুজ্জামানের রায় কার্যকর করার ক্ষেত্রে কারাবিধি প্রযোজ্য হবে না। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন অনুসরণ করা হবে। ওই আইন অনুসারে রায়ের অনুলিপি হাতে আসার সঙ্গে সঙ্গে তা কামারুজ্জামানকে পড়ে শোনানো হবে। এরপর তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হবে, তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইবেন কি না। তিনি যদি প্রাণভিক্ষার জন্য আবেদন করতে চান, তবে সেই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসির রায় কার্যকর করা যাবে না। আর তিনি যদি প্রাণভিক্ষা চাইতে রাজি না হন, তাহলে বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হবে। এরপর মন্ত্রণালয় ফাঁসির দিনক্ষণ ঠিক করে দেবে।
একাত্তরে শেরপুরের সোহাগপুর গ্রামে ১৪৪ জনকে হত্যা ও নারী নির্যাতনের দায়ে ২০১৩ সালের ৯ মে কামারুজ্জামানকে ফাঁসির আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে আসামিপক্ষ। গত বছরের ৩ নভেম্বর সোহাগপুর হত্যাকাণ্ডের দায়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতে কামারুজ্জামানের ফাঁসির আদেশ বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হলে ৫ মার্চ তা পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন কামারুজ্জামান। দুই দফা শুনানি পেছানোর পর গত রোববার আপিল বিভাগে ওই আবেদনের শুনানি হয়। এরপর গত সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আসন নিয়ে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী পুনর্বিবেচনার আবেদনের রায় ঘোষণা করেন।

 

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় বহাল রাখার প্রতিবাদে এবং তার মুক্তির দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার ও আজ বুধবার সারা দেশে হরতাল ডেকেছে জামায়াতে ইসলামী।

Top