ঢাকা, ||

সেনা হস্তক্ষেপের শঙ্কা দেখছে না যুক্তরাজ্য: সংলাপে বসার আহবান


শীর্ষ সংবাদ

প্রকাশিত: ৮:২৮ পূর্বাহ্ন, জানুয়ারী ২৩, ২০১৫

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউজ অব কমন্স▣ নিউজ ডেস্ক » : ২০ দলীয় জোটের অবরোধ আন্দোলনে সৃষ্ট অস্থিরতার ফলে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে সরকার উৎখাতের কোনো আশঙ্কা দেখছে না যুক্তরাজ্য।

বুধবার বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউজ অব কমন্সে জমা দেয়া ‘পলিটিক্যাল ক্রাইসিস ইন বাংলাদেশ: জানুয়ারি ২০১৫ আপডেট’ শিরোনামের প্রতিবেদনে এ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে।

অর্থনীতির অগ্রগতি বজায় থাকায় বাংলাদেশের প্রশংসা করে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয় – ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধীদল বিএনপির মধ্যকার রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। অনেক চ্যালেঞ্জ থাকার পরও দেশটির সামাজিক ক্ষেত্রে উন্নয়ন হচ্ছে।

বর্তমান অস্থিরতা নিরসনে সব পক্ষকে সহিংসতা থেকে বিরত থাকার এবং সংলাপে বসার আহবান জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে।

এতে আরো বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশটির গণতন্ত্র নিয়ে লুকোচুরি খেলছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু অনেক বিশ্লেষক এক্ষেত্রে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আন্তরিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

অনেকের ধারণা- খালেদা জিয়া আশা করছেন, তার বর্তমান রাজনৈতিক কৌশল সেনাবাহিনীকে দেশটিতে আবারো হস্তক্ষেপে এবং আওয়ামী লীগ সরকারকে উৎখাত করতে বাধ্য করবে। তবে এ ধরণের কোনো সম্ভাবনা পরিলক্ষিত হয়নি।

আরও বলা হয়, গত ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তি ঘিরে শুরু হওয়া রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের সব পক্ষকে সংযত হয়ে সংলাপে বসার আহবান জানিয়েছে।

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পর্যায়ক্রমে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসা এবং এরইমাঝে রাজনৈতিক বিরোধের সুযোগে সামরিক হস্তক্ষেপের ইতিহাস তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, সেনাবাহিনী কয়েক দফায় বাংলাদেশের ক্ষমতায় সার্কিট ব্রেকার হিসেবে কাজ করে। বাংলাদেশে সেনাবাহিনী সব সময় একটি রাজনৈতিক ভূমিকা রেখে এসেছে যা সাধারণভাবে আওয়ামী লীগের প্রতি বৈরী। দুই বছর সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পর ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তিন চতুর্থাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে

জয়ী হলে অনেকে আশা করেছিলেন বাংলাদেশ অতীত রাজনৈতিক ইতিহাস থেকে বেরোতে পারবে। তবে দুই বেগম হিসেবে পরিচিতি পাওয়া শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার বিবাদের কারণে সেই সুযোগ ভেস্তে গেছে।

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এই প্রতিবেদনে রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যে অনেক চ্যালেঞ্জ থাকলেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে ভালো অগ্রগতি হয়েছে।

মানতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত চৌধুরী মঈনুদ্দিন প্রসঙ্গে বলা হয়, যুক্তরাজ্যের বিদ্যমান আইনে চৌধুরী মঈনুদ্দিনকে ফেরত পাঠানোর বাধ্যবাধকতা নেই। মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত বা এ দণ্ড পেতে পারেন এমন কাউকে যুক্তরাজ্য হস্তান্তর করে না। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে না-শুধু এ নিশ্চয়তার ভিত্তিতেই তাকে হস্তান্তর করা যেতে পারে।

Top