ঢাকা, ||

সারাদেশে কালবৈশাখী:নিহত ১৫ ;বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি


শীর্ষ সংবাদ

প্রকাশিত: ৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, এপ্রিল ৫, ২০১৫

Jhorrer Picশনিবার (০৪ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আঘাত হেনেছে কালবৈশাখী ঝড়। এতে রাজধানী ঢাকা ছাড়াও বিভিন্ন জেলায় গাছ বা দেয়াল চাপা পড়ে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।ঝড়ের সঙ্গে বৃষ্টিপাত ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ফসলের। উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা। বিধ্বস্ত হয়েছে কয়েক হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি। রাজধানীতে বিলবোর্ড ভেঙে কয়েকজনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।  জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিদের তথ্য তুলে ধরা হলো।

বিলবোর্ড ভেঙে সংসদ সদস্য হাজি সেলিমের গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সময় তিনি গাড়িতে অবস্থান করায় তার আহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়েছে। তবে পুলিশ জানায়,গাড়ি রেখে হাজি সেলিম বাড়ি চলে গেছেন।

ঝড়ের সময় গুলিস্তান সার্জেন্ট আহাদ পুলিশ বক্সের সামনে একটি বাস তাড়াহুড়া করে রাস্তার পাশে নেওয়ার সময় পথচারী জাহাঙ্গীর আলমকে (৫০) চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। তাঁর বাড়ি কুমিল্লায়।
এদিকে ঝড়ের সময় বুড়িগঙ্গায় নৌকা নিয়ে দুটি বড় লঞ্চের মাঝে আশ্রয় নিতে গিয়ে লঞ্চের চাপায় মারা গেছেন একজন মাঝি। তাঁর নাম আবু হানিফ শেখ (৪৫)। তিনি সদরঘাট এলাকায় পারাপারের নৌকা চালান। হানিফ শেখের চাচাতো ভাই মুসলিম শেখ জানান, ঝড়ের সময় বাঁচতে বুড়িগঙ্গায় নোঙর করে রাখা দুটি বড় লঞ্চের মাঝে এসে আশ্রয় নেন হানিফ শেখ। প্রচণ্ড বাতাসে লঞ্চ দুটি চেপে এসে আবু হানিফের নৌকা চুরমার করে তাঁকেও চাপা দেয়। পরে ঘাটশ্রমিক ও লঞ্চের কর্মীরা লঞ্চের গায়ে লেপ্টে থাকা অবস্থায় হানিফকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঝড়ের সময় গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে রাজধানীর শাহবাগে শিশুপার্কের উল্টো দিকে একটি বিলবোর্ড পড়ে দুজন রিকশাচালক আহত হয়েছেন। এঁরা হলেন তারা মিয়া (৩৩) ও শুকুর আলী (৫০)। তাঁদের মধ্যে শুকুর আলী মুখমণ্ডল ও বুকে আঘাত পান। তারা মিয়ার ডান হাত ভেঙে গেছে।
একই সময়ে রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের বনানীর কাকলীতে একটি গাড়ির ওপর বিলবোর্ড উপড়ে পড়ে। তবে বনানী থানার পুলিশ জানিয়েছে, গাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও যাত্রীরা নিরাপদে বেরিয়ে এসেছেন। রাত ১০টার দিকে যখন পুলিশের সঙ্গে কথা হয়, তখনো গাড়িটি বিলবোর্ডের নিচে চাপা পড়ে ছিল। এতে বিমানবন্দর থেকে মহাখালীর দিকে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
ঝড়ের সময় নীলক্ষেত মোড়ে টিনের টুকরো উড়ে এসে মো. জাকারিয়া (২২) নামে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র আহত হয়েছেন। তাঁর মাথার অনেকখানি কেটে গেছে। ঝড়ের সময় দোলাইরপাড়ের দীপ্তির গলিতে ছাদ থেকে ইট পড়ে আবুল হোসেন (৪০) নামে এক সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক আহত হয়েছেন। একইভাবে কেরানীগঞ্জের খেজুরবাগ এলাকায় ভবনের ছাদ থেকে উড়ে আসা প্লাস্টিকের ড্রাম মাথায় পড়ে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি (৬৫) গুরুতর আহত হয়েছেন।
একই সময়ে গ্রিন রোডে একটি বহুতল ভবনের প্রায় ৩০ ফুট লম্বা সাইনবোর্ড ফুটপাতে এসে পড়ে।

ঢাকার  সদরঘাটে নদী পারাপারের সময় ঝড়ের কবলে পড়ে হানিফ শেখ (৪০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ঝড়ের সময় দু’নৌকার মাঝখানে চাপা পড়ে তিনি নিহত হন বলে জানিয়েছেন নিহতের চাচাতো ভাই। রাজধানীর রমনা থানাধীন শাহবাগে শিশুপার্ক সংলগ্ন রাস্তায় ঝড়ে বিলবোর্ড ভেঙে দুই রিকশাচালকসহ এক প্রাইভেটকার আরোহী আহত হয়েছেন। আহত রিকশাচালদের মধ্যে একজন  তারা মিয়া (৩৮)। অপরজনের পরিচয় পাওয়া না গেলেও বয়স আনুমানিক ৫০ বছর বলে ধারণা করা হচ্ছে । গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ  হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়াও রাজধানীর নীলক্ষেত এলাকায় জাকারিয়া (২৮) নামে একজন টিনের আঘাতে এবং ধোলাইপারে আবুল হোসেন (৩০) নামে একজন ইটের আঘাতে আহত হয়েছেন। তারা উভয়েই ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

বগুড়ার সাজাহানপুর উপজেলায় আব্দুল মান্নান ফাননা (৩০) নামে এক ব্যক্তি ঝড়ের তোপে গাছচাপা পড়ে মারা গেছেন। তিনি উপজেলার রাধানগর মাঠপাড়া গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে। সন্ধ্যায় বারান্দায় বসে থাকার সময় গাছ ভেঙে পড়ে মৃত্যু হয় তার। এ্কই উপজেলায় পায়েল ওরফে বুদা (১৬) নামে এক ব্যক্তি দেয়াল চাপা পড়ে মারা গেছেন। ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রশিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এছাড়া সোনাতলায় উপজেলায় লোহাগাড়া গ্রামে ফিরোজা বেওয়া (৫৫) ঘরের নিচে চাপা পড়ে এবং গাবতলী উপজেলার তিলিহাটা গ্রামে আসমা বেগম (৪৫) গাছের নিচে চাপা পড়ে মারা যান। এদিকে, ঝড়ের কবলে শহরের গাছপালা ভেঙে পড়ে রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ভেঙে পড়েছে অসংখ্য বিদ্যুতের খুঁটি। এছাড়া নষ্ট হয়েছে মাঠের ফসল ও অসংখ্য কাঁচা ঘরবাড়ি। অন্যদিকে, আদমদীঘিতে রেললাইনের ওপর গাছপালা ভেঙে পড়ে সান্তাহার থেকে দিনাজপুর ও দিনাজপুর-ঢাকার রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

 ঝড়ের কবলে পড়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) অজ্ঞাতপরিচয় এক বৃদ্ধা ভিক্ষুকের মুত্যু হয়েছে। সন্ধ্যায় পুরাতন ফোকলোর চত্বর থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঝড়ে দেয়ালচাপা পড়ে বাঘা উপজেলার পাকুরিয়ায় জাহানারা বেগম (৬৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।এছাড়া একই উপজেলার কিশোরপুর গ্রামে নদীতে মাছ ধরে ফেরার পথে নৌকা বাঁধতে গিয়ে পাড় ধসে মারা গেছেন এমাজউদ্দিন  (৪৫) নামে এক জেলে।

ঝড়ে আম, লিচুসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া রাজশাহী মহানগরীর সাহেব বাজার, গোরহাঙ্গা রেলগেট, নওদাপাড়া, বায়া, বিমানবন্দর থানার মোড়, শালবাগান এবং লক্ষ্মীপুর এলাকার রাস্তার ধারের বিভিন্ন গাছপালা ভেঙে গেছে। বিভিন্ন এলাকায় সাইনবোর্ড ভেঙে গেছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাস্তার পাশের অস্থায়ী দোকান। মহানগরীর বাইরে রাজশাহীর তানোর, গোদাগাড়ী, পবা, পুঠিয়া, বাগমারা, বাঘা, চারঘাট ও মোহনপুর উপজেলায় ঝড়ে আম, লিচু বাগান ও পানের বরজের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। কিছু স্কুল-কলেজের টিন উড়ে গেছে। কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

রাজশাহীর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শরীফুল ইসলাম জানান, ঝড়ের পর মহানগরীর ভদ্রা ও সাগরপাড়সহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার ওপর গাছ ও গাছের ডালপালা পড়ে যাওয়ার খবর পেয়েছেন তারা। বর্তমানে গাছ ও ডালপালা সরিয়ে রাস্তা পরিস্কারের কাজ চলছে।
ঝড়ের পরে বিভিন্ন জায়গা থেকে বিদ্যুতের খুঁটির ওপর গাছ পড়ে যাওয়ায় সংবাদ পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে সেসব স্থানে লাইন মেরামতের জন্য গাড়ি ও লোক পাঠানো শুরু হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ: ঝড়ের কবলে পড়ে শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটের মাঝপদ্মায় অন্তত ৫ শতাধিক যাত্রী  নিয়ে ৬টি ফেরি আটকা পড়ে নোঙর করে থাকে।

ঘণ্টাখানেক পরে রাত পৌনে ৯টায় নদীর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ওই রুটে ফেরি চলাচল শুরু হয় ও আটকাপড়া ফেরিগুলো গন্তব্যে ছেড়ে যায়। বিআইডব্লিউটিসির মাওয়া কার্যালয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক চন্দ্র শেখর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

 ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে  মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় ফেরি ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে নদীতে ঢেউ কমে রাত পৌনে ৮টায় চলাচল স্বাভাবিক হয়। পাটুরিয়া ঘাট শাখার সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মহিউদ্দিন রাসেল এ তথ্য জানান।

জামালপুরের পাঁচ উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের আঘাতে পাঁচ শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে ঝড় শুরু হয়। ঝড়ের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এতে মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ, ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ ও বকশিগঞ্জ এলাকায় ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
সংশ্লিষ্ট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সদরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান লেবু বলেন, এ ইউনিয়নে দুই শতাধিক কাঁচা ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।

কালবৈশাখী ঝড়ে মেহেরপুরের বিভিন্ন অঞ্চলে ফসল ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে মেহেরপুর-কুষ্টিয়া মহাসড়কের গাংনী উপজেলার চোখ তোলার মাঠ ও বাঁশবাড়িয়া মাঠের মধ্যে রাস্তার ওপর গাছপালা ভেঙে পড়ে।এতে অন্তত অর্ধশতাধিক বাস-ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহন আটকে পড়ে। পরে গাছপালা সরিয়ে যান চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়।এদিকে, ঝড়ের কবলে পড়ে মাঠের সবজিসহ বিভিন্ন ফসল ও উঠতি ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এছাড়া প্রবল ঝড়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছপালাসহ বেশ কয়েক স্থানে কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। জেলা প্রশাসক মাহমুদ হোসেন জানান, বিভিন্ন এলাকার ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। বগুড়ার ধুনট উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে দরজা খুলতে গিয়ে মাথায় আঘাত পেয়ে আফজাল হোসেন (৫০) নামে এক কৃষক নিহত হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ধুনট উপজেলার চিকাশি ইউনিয়নের জোড়শিমুল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আফজাল হোসেন উপজেলার জোড়শিমুল গ্রামের ফয়েজ প্রামাণিকের ছেলে। ধুনট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তৌহিদুল আলম মামুন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

ধুনট পৌর এলাকাসহ ১০ ইউনিয়নে প্রায় ৫ হাজার বাড়িঘরের ক্ষতি হয়েছে। এ সব পরিবারের লোকজন খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন করছে। কালবৈশাখীর  প্রভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মন্ডুবাক এলাকায় ও সদর উপজেলার ভাদুগর এলাকায় রেললাইনে গাছ উপড়ে পড়েছে। এতে রাত সোয়া ৮টা থেকে ঢাকার সঙ্গে পূর্বাঞ্চলে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

ঝড়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে উপজেলা সদরসহ পুরো এলাকা। ঝড়ে আম, লিচু ও নানা জাতের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এই ঝড়ে বিভিন্ন গ্রামের রাস্তার ধারের বিভিন্ন গাছপালা ভেঙে গেছে। টিনের তৈরি বাড়ি-ঘর ভেঙে লণ্ডভণ্ড হয়েছে। অনেকের ঘরের চালের টিন উড়ে গেছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাট বাজারের অস্থায়ী দোকানঘর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতিকুল করিম আপেল জানান, ঝড়ে তার ইউনিয়নে প্রায় ৫ শতাধিক বাড়িঘরের ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া ফসলেরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

 সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার চরনারচর ইউনিয়নের কার্ত্তিকপুর গ্রামে কালবৈশাখী ঝড়ে ঘর ধ্বসে পড়ে ফারজানা নামের এক বছর বয়সী এক শিশু মারা গেছে। ঝড়ে উপজেলার শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।নিহত শিশু ফারজানা উপজেলার কার্ত্তিকপুর গ্রামের ছলেক মিয়ার মেয়ে।

নওগাঁর মান্দা উপজেলার মহানগর গ্রামে ঝড়ের কারণে দেয়ালধসে শাহনাজ বেগম (৩৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।এ সময় আরো অন্তত ১৫ জন আহত হন। তাদের মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।মান্দা থানার ওসি মোজাফফর হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।অন্যদিকে জেলার সদর, আত্রাই, রানীনগর, বদলগাছী, পোরশা, সাপাহার, নিয়মতপুর, মান্দাসহ আশেপাপশের এলাকার শত-শত বাড়িঘরের চাল উড়ে গেছে। এসব এলাকার হাজার হাজার গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আকস্মিক ঝড়ে এসব এলাকার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

পাবনায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে চাঁদমারী এলাকায় ঝড়ে গাছের নিচে চাপা পড়ে জামেল উদ্দিন (৮০) নামে এক বৃদ্ধ চা বিক্রেতার মৃত্যু হয়েছে। নিহত জামেল উদ্দিন পাবনা পৌর এলাকার চক গোবিন্দা মহল্লার বাসিন্দা। তিনি ‍রাতে চাঁদমারী মোড়ের অভিযান ক্লাবের পাশে নিজস্ব চায়ের দোকানে ‌ দুর্ঘটনার শিকার হন। গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার খাসরাজবাড়িতে কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে যমুনা নদীতে নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে মোজাম্মেল হক নামে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার ০৪ এপ্রিল সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকাটি ডুবে যায়। পরে রাত সাড়ে আটটার দিকে ওই ব্যক্তির লাশ ভেসে উঠলে স্থানীয়রা উদ্ধার করে পুলিশে খবর দেয়।নিহত মোজাম্মেল হক উপজেলার পীরগাছা গ্রামের বাসিন্দা।কাজীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাফিউল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

Top