ঢাকা, ||

রাজধানীতে তিন দিনব্যাপী মুদ্রা প্রদর্শনী শুরু


টুকরো খবর

প্রকাশিত: ৯:২৫ অপরাহ্ন, এপ্রিল ৪, ২০১৫

2015-04-04_2_311197
তিন দিনব্যাপি মুদ্রা প্রদর্শনী  রাজধানীতে শুরু হয়েছে। হাজার হাজার বছরের প্রাচীন ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের স্মৃতি বহনকারী কয়েক হাজার মুদ্রা ও ব্যাংক নোট এই প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে।
‘বাংলাদেশের ব্যাংক নোটে বঙ্গবন্ধু’ শিরোনামে প্রদর্শিত হচ্ছে বাংলাদেশী ব্যাংক নোট। বাংলাদেশের স্মারক মুদ্রা, বাংলাদেশী ব্যাংক নোট, স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা। প্রাচীন মুদ্রা হিসেবে স্থান পেয়েছে কড়ি। এছাড়াও প্রাচীন বাংলার বঙ্গ জনপদ, গান্ধারা জনপদ, মৌয্য জনপদসহ বিভিন্ন সময়কালের বিভিন্ন আকার, রঙ, আকৃতির মুদ্রা এ প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে।
‘ভারতীয় উপমহাদেশের তাম্র মুদ্রা’ শিরোনামে স্থান পেয়েছে বাংলার স্বাধীন সুলতানী আমলের মুদ্রাসহ বিভিন্ন সময়ের তাম্র মুদ্রা। এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা, গ্রীক ও ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাস বহনকারী আব্বাসীয় খলিফাদের তৈরি মুদ্রা, মামলুক শাসন আমলের মুদ্রা, বাংলা হরিকেলা মুদ্রা এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মেডেলও প্রদর্শন করা হচ্ছে।
২৬ জন শখের মুদ্রা সংগ্রাহকের সংগ্রহ নিয়ে বাংলাদেশ নিউমিসম্যাটিক কালেক্টরস সোসাইটি (বিএনসিএস) বাংলাদেশ ডাক বিভাগের (জিপিও) সম্মেলন কক্ষে তৃতীয় বারের মতো এ মুদ্রা প্রদর্শনীর আয়োজন করে। তিন দিনব্যাপি এ মুদ্রা প্রদর্শনী প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত। বসুন্ধরা গ্রুপের আর্থিক সহায়তায় এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আজ এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি।
সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর শখের বশে মুদ্রা প্রদর্শনীকে একটি ‘সৃজনশীল উদ্যোগ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এ ধরনের শখ মানুষের সামনে বিশাল জ্ঞানের ভান্ডার খুলে দেয়। যা তাকে অনৈতিক চিন্তা ও কর্মকা- থেকে দূরে রাখে এবং প্রকৃত মানুষ হয়ে উঠতে সহায়তা করে।
তিনি বলেন, শিশু-কিশোরদের সৃজনশীল মেধার বিকাশ ঘটাতে তাদের বহুমুখী জ্ঞানের সাথে পরিচিত করতে হবে। শখের মধ্যে দিয়েও তারা অনেক কিছু শিখতে পারবে। শিশু-কিশোরদের সৃজনশীল কাজে উৎসাহিত করতে তিনি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ধারাবাহিকভাবে প্রাচীন মুদ্রা প্রদর্শনী আয়োজনের পরামর্শ দেন।
মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, আজ যারা শখের বশে মুদ্রা সংগ্রহ করছেন তাদের এই শখের মধ্যে দিয়েই তৈরি হচ্ছে ইতিহাস। যুগ-যুগান্তরের এই ইতিহাস তারা তৈরি করছেন অনাদি ভবিষ্যতের জন্য। যার মধ্যে দিয়ে একদিন পৃথিবীর মানুষ প্রাচীনতম মুদ্রার ইতিহাস জানতে পারবেন। শখের মুদ্রা সংগ্রাহকরাও হয়ে উঠবেন ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ডাক বিভাগের অতিরিক্ত মহাপরিচালক প্রবাস চন্দ্র সাহা, বসুন্ধরা গ্রুপের উপ-নির্বাহি পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুজ্জামান, নিউমিসম্যাটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ (এনএসবি)’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও প্রবীণ মুদ্রা সংগ্রহক মোহাম্মদ হোসেন চৌধুরী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতœতত্ববিভাগের অধ্যাপক ড. সুফী মোস্তাফিজুর রহমান এবং বিএনসিএস-এর সাধারণ সম্পাদক এম এ কাশেম। বিএনসিএস-এর সভাপতি অমলেন্দ্র সাহা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রীদ্বয় প্রদর্শনী স্থল ঘুরে দেখেন এবং সংগ্রাহকদের সাথে মতবিনিময় করেন।

Top