ঢাকা, ||

লাঙ্গলবন্দে ১০ পূণ্যার্থীর মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত কমিটি সম্প্রসারণ


জেলা সংবাদ

প্রকাশিত: ৪:০৯ পূর্বাহ্ন, এপ্রিল ৮, ২০১৫

langolউৎসবমুখর লাঙ্গলবন্দের  পুণ্যস্নান এবার পরিণত হয়েছে প্রিয়জনের বিয়োগব্যথার  বিষাদে। ১০ পূণ্যার্থীর মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ উৎসব লাঙ্গলবন্দ পুণ্যস্নান এবার শেষ হয়েছে। গত ২৭ মার্চ সকালে লাঙ্গলবন্দ স্নানোৎসবে এসে পদদলিত হয়ে সাত নারী এবং তিন পুরুষসহ ১০ জন নিহত হন। আহত হন কমপক্ষে ২৫ জন। হতাহতের ঘটনায় তাৎক্ষণিক লোকজনের উপস্থিতি কিছুটা কম হলেও অন্যবারের তুলনায় এবার লোকসমাগম একটু বেশি হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা ।

ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে  এ ঘটনার তদন্তে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ২৭ মার্চ তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হলেও ২৮ মার্চ শনিবার ওই কমিটিতে আরও চার সদস্য যুক্ত করে তা ৭ সদস্যে উন্নীত করা হয়েছে।

এদিকে পদদলিত হয়ে ১০ পুণ্যার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় বন্দর থানার এএসআই মোর্শেদ বাদী হয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন। এ ছাড়া বন্দর থানার ওসি নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে একই ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করেছেন। অপমৃত্যু মামলা এবং সাধারণ ডায়েরির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বন্দর থানার ওসি নজরুল ইসলাম।

২৭ মার্চ শুক্রবার ভোর ৫টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড তিথি শুরু হওয়ার পর থেকে ২৮ মার্চ শনিবার ভোর ৬টা ৫৯ মিনিট ৩৮ সেকেন্ড পর্যন্ত তিথি থাকা সময়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পাপ মোচনের আশায় নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দে ব্রহ্মপুত্র নদে স্নান করেন। শুক্রবার ভোর ৫টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড থেকে তিথি শুরু হওয়ার পরই ব্রহ্মপুত্র নদের ১৬টি ঘাটে স্নান করেন হাজারো হিন্দু ধর্মাবলম্বী পুণ্যার্থী।

লাঙ্গলবন্দ স্নানোৎসব উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বাসুদেব চক্রবর্তী বলেন, শুক্রবারের ঘটনাটি ছিল নিছক দুর্ঘটনা। টানা তিন দিন বন্ধের কারণে এবার অন্যবারের তুলনায় অনেক বেশি লোকজনের সমাগম ঘটেছিল। এ সংখ্যা ১৫ লাখেরও বেশি। এ ছাড়া নেপাল, ভুটান, ভারত থেকেও প্রচুর পুণ্যার্থী এসেছিলেন। এ দুর্ঘটনার পর সরকার দ্রুত সড়ক প্রশস্ত আর অবকাঠামোগত উন্নয়ন করবে বলে আমরা মনে করি, তখন আরও সুশৃঙ্খলভাবে স্নান হবে। শুক্রবারের দুর্ঘটনা সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা। এ বছর স্নানের লগ্ন ছিল ২৪ ঘণ্টার মতো (শুক্রবার ভোরে শুরু হয়ে শেষ হয়েছে শনিবার ভোরে)। তা ছাড়া বৃহস্পতিবার স্বাধীনতা দিবসের বন্ধ থাকায় অনেক পুণ্যার্থী বৃহস্পতিবার রাতেই এসে লাঙ্গলবন্দের বিভিন্ন ক্যাম্পে অবস্থান নেন। দূর-দূরান্ত থেকে আসা পুণ্যার্থীরা চেয়েছিলেন শুক্রবার দিনের প্রথম ভাগে স্নান শেষ করে ফিরে যাবেন। যে কারণে শুক্রবার দিনের প্রথম ভাগে পুণ্যার্থীদের উপচেপড়া ভিড় ছিল। ১৬টি ঘাটের মধ্যে রাজঘাটের অবস্থান প্রথমে। আর এ ঘাটে স্নান করার প্রতি পুণ্যার্থীদের আগ্রহ থাকে বেশি। তবে শুক্রবার দিনের প্রথম ভাগে লোহার ব্রিজটির ওপর থেকে কে বা কারা ব্রিজ ভেঙে পড়ছে বলে চিৎকার করার পরই পুণ্যার্থীদের মধ্যে শুরু হয় দৌড়-ঝাঁপ। এ থেকেই ঘটনার সূত্রপাত।

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিনারা নাজমীন জানান, এটি স্রেফ একটি দুর্ঘটনা। ব্রিজ ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি গুজব ছিল। বন্ধের দিন হওয়ায় ওই স্নানঘাটে পুণ্যার্থীদের ঢল নেমেছিল। ভিড় অত্যন্ত বেশি হওয়ায় পদদলিত হয়ে ১০ জন মারা যান। গত বছর লাঙ্গলবন্দের রাস্তাটি ছিল ১২ ফুট; অথচ এবার ১৬ ফুট করা হয়েছে ।নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্বিক) সাজ্জাদুর রহমান বলেন, লাঙ্গলবন্দের স্নানে আসা পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তায় ৮শ’ পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব এবং আনসার সদস্যরা কাজ করেছে।

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমান বলেছেন, তদন্ত রিপোর্ট পেলেই আমরা রাস্তাটি প্রশস্ত করার জন্য যোগাযোগমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করব। সেই সঙ্গে নদীটি খননেরও প্রয়োজন রয়েছে।

শুক্রবার সকালে ১০ জনের মৃত্যুর পর সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের নির্দেশে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ইসরাত হোসেন খানকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য দু’জন হলেন নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাহমুদুর রহমান হাবিব ও নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মিজানুর রহমান।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মিজানুর রহমান জানান, শনিবার জেলা প্রশাসনের নির্দেশে কমিটি সম্প্রসারণ করে আরও চারজনকে যুক্ত করা হয়েছে। এ কমিটিকে পাঁচ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। নতুন অন্তর্ভুক্ত চারজন হলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জ অফিসের উপপরিচালক, জেলা সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি, পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি এবং সড়ক ও জনপথের প্রতিনিধি। রোববার তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শনের মাধ্যমে তদন্ত কাজ শুরু করবেন।

Top