ঢাকা, ||

স্ত্রীর পরকীয়ার জেরে খুন হয় চা বিক্রেতা মামুন

স্ত্রী পারভীন আক্তারের পরকীয়ার জন্যই চা বিক্রেতা মামুন মিয়া খুন হয়েছে বলে জানিয়েছেন নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ বোরহান উদ্দিন খান। শনিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় আদালতে আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণের পর রাতে এ তথ্য জানান তিনি। নেত্রকোনার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (৩) স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন মোঃ হুমায়ুন কবির হাবলু (৫৬)। তিনি দরুনবালী গ্রামের মৃত আব্দুল শহীদ মিয়ার ছেলে। হত্যাকাণ্ডটি পূর্ব পরিকল্পিত জানিয়ে হত্যায় অংশ নেয়া অন্যদের নাম বিচারক উম্মে সালমার কাছে প্রকাশ করেন হাবলু। এর আগে শুক্রবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টায় জেলা সদরের কাইলাটি ইউনিয়নের মৌজেবালি গ্রামের একটি ধান ক্ষেত থেকে চা বিক্রেতা মামুনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। বালি বাজারের চা বিক্রেতা মামুন ওই গ্রামের মৃত মমতাজ উদ্দিন ওরফে ছোট্ট আবুর ছেলে। এদিকে, ছেলের মরদেহ উদ্ধারের পর অজ্ঞাতদের আসামি করে নেত্রকোনা মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন মামুনের মা ফাতেমা আক্তার। পুলিশ হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে গিয়ে নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। এতে অতীতের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সন্দেহভাজন কয়েকজনের নাম উঠে আসে। পুলিশ হাবলুসহ মৌজেবালি গ্রামের মৃত হোসেন আলী’র ছেলে মোঃ জুয়েল মিয়া (৩২) ও মৃত রমজান খাঁ’র ছেলে বিরাম খাঁকে (৪৫) আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এতে উন্মোচিত হয় ঘটনার মূল রহস্য। জানা যায়, দরুনবালী গ্রামের চান্দু তালুকদারের ছেলে আশিকের (২৮) সঙ্গে মামুনের স্ত্রী পারভীনের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক চলছিলো। এতে অজান্তেই পারভীন ও আশিকের পথের কাঁটা হয়ে যায় মামুন। আশিক পথ পরিষ্কার করতে মামুনকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় এবং টাকার বিনিময়ে ছয়জনকে হত্যার দায়িত্ব দেয়। ঘটনার দিন রাতে হাঁটতে যাওয়ার কথা বলে মামুনকে ধান ক্ষেতে নিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মরদেহ ফেলে রেখে যায় তারা। এদিকে আটক প্রত্যেককে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে হাবলু স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মূল নায়ক আশিকসহ বাকি চার আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান ওসি বোরহান।