ঢাকা, ||

পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে: খালেদা জিয়া


রাজনীতি

প্রকাশিত: ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন, জানুয়ারী ৫, ২০১৫

❒ নিউজ ডেস্ক | :

কেন বন্দি রাখা হয়েছে – এ প্রশ্ন করেছেন খালেদা জিয়া। সোমবার গুলশান কার্যালয়ে গাড়ি থেকে নেমে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সাংবাদিকদের বলেন, আমাকে কেন বন্দি রাখা হয়েছে সেই বিষয়টি আমি জানতে চাই? এ সময় তিনি পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

দেশে কোনো গণতন্ত্র নেই বলে মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, সভা সমাবেশের ওপর তারা বিধি নিষেধ আরোপ রেখেছে সরকার। আজ আমাদের কালো পতাকা কর্মসূচি ছিল। সমাবেশ করতে দেয়া হয় নাই। এ জন্য পরবর্তী কর্মসূচি না দেয়া পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি চলবে। এরপর সমাবেশের কর্মসূচি দেয়া হবে।

খালেদা জিয়া বলেন, গত পরশু দিন অফিসে আসার পর জানতে পারি দলের নেতা রিজভী আহমেদ অসুস্থ, তাকে দেখতে যাওয়ার জন্য বের হতেই দেখি পুলিশ অবরুদ্ধ করে রেখেছে –কেন তা আমি জানি না, আমাদের জানানো হয়নি।

তিনি আরো বলেন, সরকার টেলিভিশনে বলছে, আমাকে বন্দি করে রাখা হয়নি। তাহলে যদি বন্দি না করে কেন এতো পুলিশ, গেটে তালা? এখন আমি বের হতে চাচ্ছি কেন আমাকে বাধা দেয়া হচ্ছে। আমি সরকারের কাছে জানতে চাই কি কারণে আমাকে এখানে বন্দি করে রাখা হয়েছে?

সরকারকে আবারো স্বৈরাচার বলে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, দেশে আজকে গণতন্ত্র নির্বাসিত এবং জনগণের মৌলিক, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের নেই। দেশে সুশাসন বলে কিছু নেই। দেশে একটা অস্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে। গোটা দেশই এখন কারাগারে পরিণত হয়েছে। রক্ত দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না, এ রক্ত দিয়েই ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে হবে।

পল্টন অফিসে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়া আহ্বান জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, আমি নিজেই অবরুদ্ধ নই সারাদেশ আজ অবরুদ্ধ করে রেখেছে সরকার— খালেদা জিয়া বলেন, এটা কোন ধরনের নিরাপত্তা, আমি যেখানে যেতে চাইব সেখানে যেতে তারা সাহায্য করবে কিন্তু তা করা হচ্ছে না। কাজেই এভাবে দেশ চলতে পারে না।

সারাদেশে বিএনপি নেতাকর্মীরা স্বতস্ফূর্ত সভা- সমাবেশ করতে চেয়েছিল সেখানে আওয়ামী লীগের গুণ্ডাবাহিনী পুলিশের সহায়তায় বন্ধ করে দিয়েছে। সমাবেশে হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে অবিলম্বে আবারো নির্বাচন দেয়ার এবং আবারো আলোচনায় বসার আহ্বান আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার জনগণ দ্বারা নির্বাচিত সরকার নয় কাজেই এ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য নয়, নির্বাচন দিতে সরকার ভয় পায় কেন? একটা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে পারে সেটাও আমরা আলাপ আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করে নিতে পারি। সরকার সে পথে নেই, দেশের অবস্থা দেখলে মনে হয় যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। এর জন্য যারা জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে তারা দায়ী। এ দায় কোনোভাবেই তারা এড়াতে পারে না। মানুষ চায় পরিবর্তন, একটা নির্বাচনের মাধ্যমে। তারা চায় শান্তি।’

চেয়ারপারসন বলেন, একুশে টিভির সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, এর আগেও অনেক টিভি চ্যালেন বন্ধ করে দিয়েছে। কেন তারা টেলিকাস্ট করবে না, সরকার কথা বললে টেলিকাস্ট করা হবে আর অন্যরা বললে বন্ধ করা হবে, এটা গণতন্ত্রের ধারা হতে পারে না।

তিনি আরো বলেন, অতীতে তাদের এই চেহারা ছিল স্বাধীনতার পরে এখন তারা ফ্যাসিস্ট হয়ে গেছে তারা। কাজেই এই ফ্যাসিস্ট সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারে না। জনগণ যে তাদের সঙ্গে নেই সেটা তারা বুঝতে পেরেছে। জনগণ থেকে তারা বিচ্ছিন্ন, এদের পায়ের নিচে কোনো মাটি নেই। তারা নির্বাচন দিতে ভয় পায়, তাদের যে কি করুণ পরিণতি হবে সেটা তারা বুঝতে পেরে গেছে। গুলি চালিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়, পৃথিবীর অনেক দেশে কখনো কোনো ডিক্টেটর ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি, এড়াতো ডিক্টেটর হয়ে গেছে, কেউ কিন্তু টিকে থাকতে পারেনি। শুধু ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি ক্ষমতা ছড়ার পড়েও যে পরিণতি হয়েছে অনেক খারাপ ও করুণ, সেটাও যেন তারা ভুলে যায় না। দেশ এ অচলাবস্থা তা চলতে পারে না।

পুলিশের মধ্যে সরকারের এজেন্ট ঢুকে পড়ার উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশটাকে তারা পুলিশি রাষ্ট্র বানাতে চায় সরকার, সব কাজ পুলিশ দিয়ে করাচ্ছে সরকার।
পুলিশকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, বেশি বাড়াবাড়ি করবেন না, এ বাড়াবাড়ি বেশিদিন ঠিকবে না, তার জন্য পরিণতি ভোগ করতে হবে, এটা মনে রাখবেন।

উল্লেখ্য, শনিবার রাত থেকে গুলশানে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এরপর রোববার রাত থেকে ১০-১২ টি ইট ও বালু ভর্তি ট্রাক দিয়ে কয়েক স্তরের ব্যারিকেড সৃষ্টি করা হয় কার্যালয়ের বাইরে। এছাড়া পুলিশ, র‍্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশ অবস্থান নেয় কার্যালয়ের বাইরে ও আশপাশের এলাকায়।

Top