ঢাকা, ||

লাগাতার হরতাল অবরোধে স্থবির অর্থনীতি


ফিচার

প্রকাশিত: ৮:১৪ অপরাহ্ন, ফেব্রুয়ারী ৩, ২০১৫

▣ বিশেষ প্রতিবেদক » : বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের লাগাতার অবরোধ ও হরতালের কারণে কৃষক, ব্যবসায়ী, উৎপাদনকারী ও আমদানি-রপ্তানিকারকসহ সকলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। চলমান আন্দোলনে জনগণের স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণ না থাকলেও চোরাগুপ্তা হামলা ও বাস ট্রাকে বোমা হামলা ও মানুষ পুড়িয়ে মারার কারণে আতঙ্কিত থাকার কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিরাজ করছে স্থবিরতা।

পরিবহন সঙ্কটের কারণে ক্ষেতের ফসল ক্ষেতেই পঁচছে। বেশি ভাড়ায় পরিবহন করে হামলার শিকার হচ্ছে আবার পাইকারের অভাবে বিক্রিও করতে পারছেন না।

কৃষক, আড়তদার, ব্যবসায়ী সকলেই শঙ্কিত। লোকসানের কারণে অনেকে সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছেন। আমদানিকৃত সকল ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়ে গেছে।
প্রায় এক মাস ধরে চলছে ২০ দলীয় জোটের টানা অবরোধ আর হরতালের কারণে পণ্য যেমন আমদানি-রপ্তানিতে দেখা দিয়েছে জটিলতা।
বাণিজ্যিক প্রসারের লক্ষ্যে প্রতি বছরের মতো এবারও আয়োজন করা হয় ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। ক্রেতা ও দর্শনার্থী কম থাকায় নির্ধারিত সময়ের চেয়ে আরো ১০ দিন বাড়ানো হলেও বিক্রয়ের কাঙ্খিত লক্ষ্য পুরণ হয়নি। লোকসান গুনতে হয়েছে অনেক ব্যবসায়ীকে।
স্থবির হয়ে পড়েছে চট্রগ্রাম ও মংলা বন্দর। পণ্য রপ্তানির জন্য বন্দরে পৌঁছানো ও আমদানি পণ্য খালাসে নানা জটিলতার সম্মখীন হতে হচ্ছে।। বন্দরের পাশাপাশি বন্দর ব্যবহারকারীরাও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

ঢাকার ইসলামপুরের পাইকারি কাপড়ের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক অচলাবস্থায় বেশিরভাগ দোকানপাট বন্ধ রাখছেন ব্যবসায়ীরা। গত এক মাসের যে ক্ষতি হয়েছে তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়।

অবরোধে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে কিছু দোকান খুললেও হরতালে প্রায় সব দোকানই থাকে বন্ধ। ক্রেতাও তেমন নেই। ইসলামপুরের মতো রাজধানীর ছোট-বড় প্রায় সকল পাইকারী দোকানের অবস্থা একই।

প্রায় এক মাসের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন সবচেয়ে বেশি। আনুষাঙ্গিক খরচ বাড়ার পাশাপাশি ব্যাংকের দায় বাড়ার কথা জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

তারা জানান, টানা হরতাল-অবরোধ কর্মসূচিতে প্রতিদিনই বাড়ছে ক্ষতির পরিমাণ।

ক্ষুব্ধ ভোক্তারাও। রাজনৈতিক অচল অবস্থা কাটিয়ে স্বাভাবিক পরিস্থিতির অপেক্ষায় আছে চরমভাবে উদ্বিগ্ন কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সকল মহল।

Top