ঢাকা, ||

পদ্মায় ভাঙন রোধে ড্রেজিং শুরু সোমবার


ফিচার

প্রকাশিত: ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৮

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের (ভারপ্রাপ্ত) সচিব কবির বিন আনোয়ার বলেছেন, নড়িয়ার ভাঙন কবলিত এলাকায় ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু করতে আজ রোববারই একটি ড্রেজার এসে পৌঁছেছে। আগামীকাল থেকে ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু হবে। এছাড়া পানি কমলেই এ এলাকায় বাঁধের কাজ শুরু করবে সরকার।

রোববার সকালে নড়িয়া উপজেলার কেদারপুর, মূলফৎগঞ্জ ও বাঁশতলার ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে দুপুর পৌনে একটার দিকে নড়িয়া উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সচিব এসব কথা বলেন।

সচিব বলেন, স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধের জন্য শরীয়তপুরের জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলার ৯ কিলোমিটার জুড়ে ‘পদ্মার ডান তীর রক্ষা প্রকল্প’ নামে একটি প্রকল্প গত ২ জানুয়ারি একনেক সভায় পাস হয়েছে। পদ্মা সেতু থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৯৭ কোটি টাকা।

২০২১ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বর্তমানে পদ্মার ভাঙনের তীব্রতা রোধে জুলাই মাসে সাড়ে ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এ অর্থ ব্যবহার করে ১১ জুলাই থেকে ভাঙন এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা শুরু হয়ে যা এখনও অব্যাহত আছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, মূলফৎগঞ্জ বাজারের পদ্মার পাড়ে জিও ব্যাগ ফেলে কিছুটা হলেও ভাঙন ঠেকানো গেছে। এই খাতে নতুন করে আরও ২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, পদ্মার স্রোতে নড়িয়া-জাজিরার তীরগুলো ভেঙে যাচ্ছে। তাই মাঝখানের চরগুলোকে কেটে ওই দিক দিয়ে পানি প্রবাহিত করার চেষ্টা চলবে। স্রোতটাকে ঘুরিয়ে দেয়া হবে। প্ল্যান করেই কাজ শুরু হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এই কাজে নড়িয়া এলাকায় একটি ড্রেজার এসেছে। আরেকটি ড্রেজার দুই একদিনের মধ্যে ভাঙন কবলিত এলাকায় পৌঁছে যাবে।

ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, নড়িয়া-জাজিরার এই অংশে ৯ দশমিক ৭৯ কিলোমিটার ড্রেজিংয়ের কাজ করা হবে। আর ৯ দশমিক ৯০ কিলোমিটার এলাকায় ভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণ করা হবে। এছাড়া একনেকে পাস হওয়া পদ্মা সেতুর ডানতীর ও বামতীর বাঁধ রক্ষায় ১ হাজার ৪৯০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের কাজ এই শুকনো মৌসুমে শুরু হবে।

আইড়াল খা, মধুমতি ও পদ্মা নিয়ে আরও ২ হাজার ৯১ কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে পাস হয়েছে। প্রতিবছর পদ্মায় ভাঙনে যারা সহায় সম্বলহীন হয়ে যাচ্ছে তাদের কথা চিন্তা করে রিভার সিস্টেম ডেভেলপ করে স্থায়ী বাঁধ গড়ে তোলা হবে। ১০০ বছরের পরিকল্পনা এটি।

নদ-নদীর জন্য আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে তথা ১২ বছরে ২ লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকা খরচ করে ৮০টি প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। যে প্রকল্পগুলো সরাসরি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের।

প্রেস ব্রিফিংয়ের আগে নড়িয়া উপজেলা চত্বরে ভাঙন কবলিত এলাকার ১ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ৫ কেজি চাল, ১ কেজি লবণ, ১ কেজি চিনি, ১ কেজি চিড়া, ১ কেজি বিস্কুট, ১ লিটার সোয়াবিন তেল, ৫০০ গ্রাম মুড়ি, ১২টি দিয়াশালাইর প্যাকেট ও ১২টি মোম বিতরণ করেন সচিব।

এ সময় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম, জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের, নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা ইয়াসমিন, নড়িয়া পৌরসভার মেয়র শহিদুল ইসলাম বাবু রাড়ী ও নড়িয়া উপজেলা পিআইও (ভারপ্রাপ্ত) স্বপন মতব্বর উপস্থিত ছিলেন।

Top