ঢাকা, ||

খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের মাঝে অবিশ্বাস


ফিচার

প্রকাশিত: ১১:১৯ পূর্বাহ্ন, জানুয়ারী ২৭, ২০১৫

আহসান কবীর » :: বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের মধ্যে বেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাস ও প্রেস সচিব মারুফ কামাল সোহেল সমর্থিত দুই গ্রুপের  মধ্যে দ্বন্দ্ব ও অবিশ্বাস চরম আকার ধারণ করেছে। একে অপরকে সরকারের দালাল হিসেবে প্রমাণ করতে প্রাণপন চেষ্টা চালাচ্ছে। কোকোর মৃত্যুর পর খালেদা জিয়াকে দেখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফিরে আসার নেপথ্যে ছিল শিমুল ও মারুফের আধিপত্য বিস্তারের লড়াই যেখানে শিমুল বিশ্বাস জয়ী হয়।

শিমুল বিশ্বাস ও মারুফ কামাল

শিমুল বিশ্বাস ও মারুফ কামাল

বহুদিন যাবত খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস ও মারুফ কামাল সোহেলের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে। তারেকের আশির্বাদ ও জামাত-শিবিরপন্থিরা পক্ষে থাকার কারণে মারুফের অবস্থান শক্ত থাকলেও বিএনপির স্থায়ী কমিটির বেশিরভাগ নেতা শিমুলের পক্ষে। সম্প্রতি শিমুলের অনুগত বাবুলকে নিয়ে তাদের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রূপ লাভ করে। দুপক্ষই একে অপরকে সরকারের দালাল ও গোয়েন্দা সংস্থার চর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চেষ্টা চালাচ্ছে।

কয়েকটি কারণে এ অবিশ্বাস ভিত্তিও পাচ্ছে। জানা গেছে, ৩ জানুয়ারি রুহুল কবির রিজভীকে দেখতে খালেদার নয়া পল্টন যাওয়া সম্পর্কে শিমুল ও মারুফ ছাড়া কেউ জানতো না। এ সিদ্ধান্তের মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে পুলিশ এসে বাধা দেয় এবং মাত্র ১৫ মিনিটের ব্যবধানে কার্যালয় এলাকায় গোয়েন্দাসংস্থাসহ পুলিশ অবস্থান নেয় এবং ট্রাক দিয়ে বাড়ির উভয় পাশের সড়ক বন্ধ করে দেয়। প্রশ্ন ওঠে কে ফাঁস করেছে খালেদা জিয়ার নয়া পল্টনে যাওয়ার পরিকল্পনাটি? এ নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয় মূলত মারুফের প্রতি।

এদিকে, খালেদার সঙ্গে অমিত শাহের কথোপকথনটি মিথ্যা – এমন তথ্য মিডিয়ায় জানানো হয় একটি ভুতুড়ে ফোনের মাধ্যমে। এর সূত্র ধরে বিভিন্ন মিডিয়া রিপোর্ট করা শুরু করে। ধারণা করা হয় এর পেছনে কলকাঠি নেড়েছে শিমুল ও তার অনুগত বাবুল।

সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত না করার বিষয় শিমুলের একক সিদ্ধান্ত ছিল বলে জানা যায় যে কারণে খালেদাকে নিজ দলের লোকদের কাছ থেকেও সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয়।

জানা গেছে, শিমুল বিশ্বাস ও মারুফ কামালের উপর নেতাকর্মীদের সন্দেহ আগে থেকে থাকলেও সাম্প্রতিককালে তা চরম আকার ধারণ করেছে। দুজনের বিরুদ্ধেই সরকারী দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতা ও বিশেষ বাহিনীর লোকদের সাথে গভীর যোগাযোগের অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু জামাত ও তারেকের আশির্বাদপুষ্ট হওয়ায় মারুফ কামাল যেমন শক্ত অবস্থানে আছে তেমনি ফালুসহ কয়েকজন শীর্ষনেতা পক্ষে থাকায় খালেদা জিয়ার কাছে শিমুল বিশ্বাসের স্থান অটল।

Top