ঢাকা, ||

কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহারের নির্দেশ


জাতীয়

প্রকাশিত: ১:৪৯ অপরাহ্ন, এপ্রিল ৬, ২০১৫

bd-govকূটনৈতিক রিপোর্টার: কাতারে দুই বছরের বেশি সময় দায়িত্ব পালনের পর ঢাকা ফিরে আসতে হচ্ছে রাষ্ট্রদূত সৈয়দ মাসুদ মাহমুদ খন্দকারকে । প্রবাসী আওয়ামী লীগের সঙ্গে দ্বন্দ্বের রেশ ধরে তাকে ফিরিয়ে আনতে নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় । তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি রাষ্ট্রদূত মাসুদ খন্দকারকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হবে, নাকি অন্য কোথাও বদলি করা হবে। অবশ্য মাসুদ খন্দকারের বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে  সেটা নিয়ে অসন্তোষ আছে পেশাদার কূটনীতিকদের মধ্যে। একাধিক সিনিয়র কূটনীতিক এ নিয়ে কথা বলেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সচিবের সঙ্গে।

কক্সবাজারের উখিয়া এলাকার সৈয়দ মাসুদ মাহমুদ খন্দকার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন।  পারিবারিক প্রতিষ্ঠান জমজম ইন্টারন্যাশনাল এবং জমজম ট্রাভেল এজেন্সীজ । এই প্রতিষ্ঠানের সাথে জামায়াতের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও রয়েছে ।

জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ১ এপ্রিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে মাসুদ মাহমুদ খন্দকারকে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়। পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হকের কাছে পাঠানো চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম বলেছেন, উপরিউক্ত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে কাতারে বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত মাসুদ মাহমুদ খন্দকারকে প্রত্যাহারের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষ অনুশাসন প্রদান করেছেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এ নির্দেশের চিঠি এখনো সংশ্লিষ্ট দফতরে পৌঁছায়নি। কিন্তু এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বিভিন্ন পর্যায়ে। সূত্রমতে, রাষ্ট্রদূত মাসুদ খন্দকারের বিপক্ষে নানা সময় অভিযোগ করা হয়েছে কাতারের আওয়ামী লীগের একাংশের পক্ষ থেকে। এসব অভিযোগ একাধিক সময় ঢাকার গণমাধ্যমেও পাঠানো হয়েছে। 
তার বিরুদ্ধে অভিযোগে  বলা হয়, গত বছরের ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে রাষ্ট্রদূতের পৃষ্ঠপোষকতায় কাতারে নাচ গানের আয়োজন হলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের হস্তক্ষেপ ও স্থানীয় সৈনিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও যুবলীগের বাধায় পণ্ড হয়ে যায় । গত বছরের ২১শে অক্টোবর দূতাবাসে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের কারণে দূতাবাসের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। সকাল ৯টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত দূর-দূরান্ত থেকে আসা কর্মীরা বাইরে দাঁড়িয়ে থাকেন। সরকারের অনুমতি না নিয়েই রাষ্ট্রদূত সড়কপথে সৌদি আরব যান এবং ফেরার পথে গত বছরের ৭ জুলাই দুর্ঘটনায় পতিত হন।
কাতারে বাংলাদেশ স্কুলের মাঠে ‘লাখো কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত’ নামের অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর ছবি ছিল না এমন অভিযোগ করা হয়েছে প্রবাসীদের পক্ষ থেকে ।

Top