ঢাকা, ||

এই মাস থেকেই ২০১৯ বিশ্বকাপের পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি শুরু করছে টাইগাররা


খেলাধুলা

প্রকাশিত: ৮:২১ অপরাহ্ন, এপ্রিল ৪, ২০১৫

11026187_10206417941357115_5428645959759722562_n
সব কিছু ঠিক থাকলে ১৭ এপ্রিলের ওয়ানডে দিয়েই শুরু হচ্ছে পাকিস্তানের বিপক্ষে হোম সিরিজ। আর বর্তমান বাস্তবতা বাংলাদেশকে এমন এক সন্ধিক্ষণে এনে দাঁড় করিয়ে রেখেছে যে তিন ম্যাচের সেই ওয়ানডে সিরিজ দিয়েই পরবর্তী বিশ্বকাপ ভাবনায় ডুব দিতে হচ্ছে। বিশেষ করে ক্রিকেটারদেরই সে ভাবনাটা আরো বেশি। কারণ ২০১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ সরাসরি খেলবে নাকি সেই আইসিসি ট্রফি যুগে ফিরে গিয়ে বাছাইপর্বের বাধা পেরিয়ে মূল পর্বের টিকিট নেবে, সেটি কেবল নির্ভর করছে তাঁদের পারফরমেন্সের ওপরই।

যে জন্য ২০১৫ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার সপ্তাহখানেক পেরোতে না পেরোতেই মাথায় ঢুকে পড়েছে পরের বৈশ্বিক আসরও। ১৯ মার্চের কোয়ার্টার ফাইনালের মাত্র এক মাসের মধ্যেই ‘মিশন ২০১৯’ নিয়ে উঠে-পড়ে লেগে যাওয়াও অযৌক্তিক নয়। কারণ সময়ের স্বল্পতা। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার মাথায়ও তাই সময়ের হিসাবটাই ঘুরপাক খাচ্ছে বেশি, ‘পরের বিশ্বকাপ আরো চার বছর পরে। কিন্তু আমাদের হাতে তো আছে মাত্র দুই বছর। সরাসরি বিশ্বকাপ খেলতে হলে আমাদের যা যা করার, তা এই সময়ের মধ্যেই করতে হবে।’

প্রবল সমালোচনার মুখেও আপাতত এটাই ঠিক হয়ে আছে যে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় ২০১৯ বিশ্বকাপ হবে ১০ দলের। তাতে আইসিসির ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ আট দল খেলবে সরাসরি। আর র‌্যাংকিংয়ের নয় এবং দশে থাকা টেস্ট পরিবারের দুই সদস্যকে সহযোগী সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে বাছাইপর্বে লড়ে তবেই যেতে হবে মূল পর্বে। ২০১৮-র মার্চে সেই বাছাইপর্বও হওয়ার কথা আছে বাংলাদেশে। নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠেয় সেই আসরে অংশ নেওয়া এড়াতে এবং সরাসরি বিশ্বকাপে খেলতে বাংলাদেশকে ২০১৭-র ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অবশ্যই র‌্যাংকিংয়ের সেরা আটে উঠে আসতে হবে। অর্থাৎ আইসিসির বেঁধে দেওয়া সময়সীমা অনুযায়ী বাংলাদেশের হাতে সময় আছে আড়াই বছর।

এই সময়ের মধ্যে র‌্যাংকিংয়ের নয়ে থাকা বাংলাদেশের সঙ্গে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যবধানটাও কম দূরের নয়। আট নম্বরে থাকা ক্যারিবীয়দের রেটিং যেখানে ৯২, সেখানে বাংলাদেশের ৭৬। পয়েন্টের হিসাব অবশ্য ব্যবধানকে যোজন যোজনই মনে করাবে। এখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের (৫,২৪৬) চেয়ে ২,৩৫৭ পয়েন্টে পিছিয়ে বাংলাদেশ (২,৮৮৯)। আড়াই বছরের মধ্যে এত ব্যবধান ঘুচিয়ে ক্যারিবীয়দের টপকে যাওয়া কি আসলেই সম্ভব? এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গিটা এ রকম যে তারা ২০১৮-তে ঘরের মাঠে বাছাইপর্ব খেলার মানসিক প্রস্তুতি একরকম নিয়েই রেখেছেন। মাঠের পারফরমেন্স দিয়ে সেই চ্যালেঞ্জ জেতার দায়িত্ব যাঁদের, সেই ক্রিকেটারদের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ অধিনায়কও মানছেন, ‘সময়টা বড় অল্প। পয়েন্টের ফারাকও তো অনেক। এই সময়ের মধ্যে কাজটা তাই সত্যিই বেশ কঠিন।’

তার ওপর এ বছরই ঘরের মাঠে সিরিজ আছে র‌্যাংকিংয়ের দুই ও তিনে থাকা ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে। এক নম্বরে থাকা অস্ট্রেলিয়াও আসছে তবে অক্টোবরের সফরে তারা খেলবে শুধুই টেস্ট সিরিজ। আর এ মাসে সাত নম্বরে থাকা পাকিস্তান সিরিজ তো আছেই। বড় দলের সঙ্গে খেলে পয়েন্ট বাড়ানোর সম্ভাবনায় অনাস্থা থাকতে পারে অনেকেরই। তবে ২০১৫ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফর্ম করে ফেরা দলের অধিনায়ক এখানে অর্ধেক খালি গ্লাস না দেখে বরং অর্ধেক ভরাই দেখতে পাচ্ছেন, ‘র‌্যাংকিংয়ের বড় দলগুলোর সঙ্গে খেলার একটা সুবিধাও আছে। জিতলে আপনার রেটিংটা এক লাফে অনেক বেড়ে যাবে।’

আইপিএল খেলতে দেশ ছাড়ার আগে একই কথা বলে গেছেন সাকিব আল হাসানও, ‘এই বছরটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু ১০ দেশের বিশ্বকাপ হবে সামনে, তাই আমাদের র‌্যাংকিংয়ে ওপরে ওঠার ব্যাপার আছে। বড় দলগুলোর সঙ্গে জিতলে যেটা সুবিধা, পয়েন্ট বেশি পাওয়া যায়। খুব স্বাভাবিকভাবেই আমাদের ওপরে ওঠার সুযোগও বেশি থাকবে।’ সেই সুযোগ নিতে হলে বেশি বেশি ম্যাচ পাওয়ারও দাবি আছে মাশরাফির, ‘এ ক্ষেত্রে দায়িত্বটা খেলোয়াড়দেরই বেশি। তবে আমরা কত বেশি ম্যাচ পাব, তার ওপরও র‌্যাংকিংয়ে এগোনোর বিষয়টি নির্ভর করবে। আশা করছি, সংশ্লিষ্টরা এদিকটাও দেখবেন।’

কিন্তু যখন যে দলের সঙ্গেই খেলা হোক না কেন, লক্ষ্যটা এখানেই স্থির সাকিবের, ‘সরাসরি খেলতে চাইলে আমাদের আটের মধ্যে থাকতেই হবে। কাজেই বড় দল আসুক আর ছোট দল, আমাদের চেষ্টা করতে হবে যত বেশি সম্ভব ম্যাচ জেতার। যাতে করে আমরা র‌্যাংকিংয়ে ওপরে উঠতে পারি। এবং ওটা ধরে রাখতে পারি। আট দলের মধ্যে থাকতে পারলে সেটি আমাদের জন্য হবে বড় পাওয়াও।’ ২০১৫-র বিশ্বকাপ সেই প্রাপ্তির আশায় আরো আশাবাদী করে তুলেছে অধিনায়ক মাশরাফিকেও, ‘নিউজিল্যান্ডকে হারাতে পারলে আমাদের জন্য ব্যাপারটা খুব ভালো হতো। সেটি হয়নি কিন্তু বিশ্বকাপের পর দেশের মাটিতে যে কাউকে যখন-তখন হারিয়ে দেওয়ার বিশ্বাসটা এখন আমাদের আরো বেশি। বড় বড় সিরিজ থেকে তাই পয়েন্ট-রেটিং বাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টাও থাকবে।’

সেই চেষ্টা শুরু হয়ে যাচ্ছে এ মাসের পাকিস্তান সিরিজ থেকেই!

Top