ঢাকা, ||

পাকিস্তানে জঙ্গি হামলায় স্কুল শিক্ষার্থীসহ ১৪১ জন নিহত


আন্তর্জাতিক

প্রকাশিত: ৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, ডিসেম্বর ১৭, ২০১৪

গতকাল পাকিস্তানের পেশোয়ারে সেনাবাহিনী পরিচালিত একটি স্কুলে তালেবান জঙ্গিরা হামলা চালিয়েছে। এতে ১৩২ স্কুল শিক্ষার্থীসহ নিহত হয় ১৪১ জন।

২০০৭ সালে দেশটির সোয়াত ভ্যালিতে তালেবান হামলার শিকার হন মালালা ইউসুফজাই। মাথায় গুলি লাগার পরও অলৌকিকভাবে বেঁচে যান তিনি। নারী শিক্ষা আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকার জন্য এবার শান্তিতে নোবেল পেলেন মালালা। এবার পেশোয়ারে স্কুলের ঘটনা যেন হার মানালো সব নির্মমতাকে। তালেবানদের বর্বরতায় নিভে গেলো ১৩২টি শিশুসহ ১৪১ জনের জীবন। যারা বেঁচে গেল তাদের সারাজীবন তাড়িয়ে বেড়াবে বর্বরতার দুঃসহ স্মৃতি। বেঞ্চের নীচে লুকিয়েও রেহাই পায়নি তারা। আল্লাহু আকবার’ বলে গুলি চালাতে থাকে জঙ্গিরা।

তেহরিক-ই-তালেবান এর পক্ষ থেকে দায় স্বীকার করে জঙ্গি সংগঠনটির এক মুখপাত্র বলেছেন, তালেবানদের পরিবারের সদস্যদের টার্গেট করে সেনাবাহিনীর অভিযানের প্রতিশোধ হিসেবে তারা এ হামলা চালিয়েছে।

নিহতদের বেশিরভাগেরই মাথায় গুলি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আহত-নিহত শিক্ষার্থীদের স্বজনদের আর্তনাদে ভারী হয়ে গেছে হাসপাতালগুলোর পরিবেশ। এ ঘটনায় তিন দিনের শোক পালন করছে পাকিস্তানে।

এদিকে, জঙ্গিবাদ দমনে করণীয় ঠিক করতে বুধবার পার্লামেন্টের সকল রাজনৈতিক দলের সদস্যদের বৈঠকে ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী নেওয়াজ শরীফ। এ বৈঠকে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সবাইকে কঠোর অবস্থান নেয়ার আহ্বান জানানো হবে।

পাকিস্তানে তালেবানদের নিরীহ মানুষ হত্যা প্রায় প্রতিদিনের খবর। লোকালয়, বাজার, চার্চ এমনকি মসজিদে বোমা ফাটিয়ে নিরপরাধ মানুষ হত্যা করে তালেবানরা। তাদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেনা স্কুলের শিশুরাও। হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে দুই পায়ে গুলিবিদ্ধ এক শিক্ষার্থী সংবাদ মাধ্যমের কাছে বর্ণনা দিয়েছে সেই বিভীষিকাময় মুহুর্তগুলোর। দুই পায়েই হাঁটুর নিচে গুলি লাগায় খুব যন্ত্রণা হচ্ছিল তার। তবু জীবন বাঁচাতে মারা যাওয়ার অভিনয় করে বেঁচে যায় সে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পালাতে গিয়ে জ্ঞান হারায়। এর আগে দেখেছে সতীর্থদের অনেক মৃতদেহ। দেখেছে রক্ত ঝরছে এমন অবস্থায় স্কুলের এক মহিলা অফিস কর্মীর গায়ে আগুন জ্বলতে।

এই আহত স্কুল বালকের মতো আরো ১৩১ শিক্ষার্থীর অনেকেই এখন লড়ছে মৃত্যুর সঙ্গে।

Top